হলি আর্টিজানের রায়কে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার
হলি আর্টিজানের রায়কে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজান হামলা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৭ নভেম্বর) রায়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। যদি প্রয়োজন মনে করি কয়েকদিন নিরাপত্তা জোরদার রাখা দরকার, তাহলে সে কয়দিনই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
 
মঙ্গলবার র‌্যাব সদর দফতরে হলি আর্টিজান হামলার রায়কে সামনে রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 
র‌্যাবের ডিজি বলেন, শুধুমাত্র স্পেশাল অ্যালার্ট না, এর বাইরেও সবসময় র‌্যাব সতর্ক অবস্থায় থাকে। যাতে জঙ্গি ধ্বংসাত্মক কিছু করতে না পারে। আমাদের প্রত্যেকটি র‌্যাবের ব্যাটালিয়নে জঙ্গিবিরোধী সেল রয়েছে। আমাদের সেন সেলগুলো টুয়েন্টিফোর আওয়ার কাজ করছে।
 
জঙ্গিবিরোধী বহুমুখী তৎপরতার কারণে বাংলাদেশে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণকে ইউনিক ঘটনা মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখনই জঙ্গিবাদের উত্থানের চেষ্টা হয়েছে, তখনই আমরা তাদের নস্যাৎ করে দিয়েছি। জঙ্গিবিরোধী অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র অভিযান নয়, আমাদের বহুমুখী তৎপরতার কারণে কিছু ইউনিক ঘটনা ঘটেছে, আটজন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। দ্বিতীয় ইউনিক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৫ নভেম্বর) আফগানিস্তানে। আমরাই কিন্তু পৃথিবীতে পথ দেখেছি যে, জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করতে পারে।
 
বেনজীর আহমেদ বলেন, বুধবার হলি আর্টিজান মামলার রায় ঘোষিত হবে। আমি মনে করি, আমাদের জন্য এটা একটি মাইলফলক। যারা অন্যায় করেছে, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, খুন করেছে তাদের সঠিক বিচার হবে বলে আমি মনে করি। আশা করছি, দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে। হলি আর্টিজানে দুঃখজনক ঘটনায় যে সমস্ত নিরীহ সাধারণ মানুষ বিনা কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন, আমি এসব নিহত মানুষগুলোর আত্মার মাগফেরাত ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
 
হলি আর্টিজানের ঘটনা দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা দেশের মানুষের কল্পনা ছিল না। তারপরও এই ঘটনাটি ঘটেছে।
 
র‌্যাব প্রধান বলেন, হলি আর্টিজানের পর থেকে আমরা এখন পর্যন্ত ৮০৯ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছি। র‌্যাব জঙ্গিবিরোধী অভিযান থেকে কখনো দৃষ্টি সরায়নি। এমন কোনো সপ্তাহ নেই, জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়নি। দেশের কোথাও না কোথাও জঙ্গিবিরোধী অপারেশন হচ্ছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত ২৫ জঙ্গি গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।
 
ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা গেছে, কিন্তু তাদের দর্শনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কর্মকৌশল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কর্মকৌশল হচ্ছে জনসচেতনতা, ডিরেডিক্যালাইজেশন। যারা যারা রেডিক্যালাইজেশন তাদের ডিরেডিকালাইজড করা। সামাজিক পুনর্বাসন করা, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। র‌্যাব কাউন্টার ন্যারেটিভ তৈরিতে কাজ করছে। যারা জঙ্গিবাদে মোটিভেট হয়েছেন, তাদের সামাজিকভাবে পারিবারিকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ডিমোটিভেট করতে হবে।
 
হলি আর্টিজান হামলার বিষয়ে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্যের ঘাটতি ছিল কি-না জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা প্রতিমাসে অনেক ঘটনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেই, সেগুলো কিন্তু সামনে আসে না। আপনি শতভাগ সফল হবেন তা কিন্তু নয়, ১০০ ঘটনার মধ্যে ৯৯টিতে সফল হলো। কিন্তু একটি মাত্র ঘটনায় সফল হতে পারলো না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যর্থ বলা যায় না। আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশে আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, সেখানে রাষ্ট্রের, প্রধানমন্ত্রীর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট অর্জন ও সফলতা রয়েছে।
 
‌‌‘হলি আর্টিজান হামলার পর অনেক দেশ কিভাবে রিঅ্যাকশন দেখিয়েছে? আমাদের মেগাপ্রজেক্ট, বিমানবন্দর স্থলবন্দর বন্ধের উপক্রম হয়েছিল, আমাদের দেশ থেকে বিদেশি ও এক্সপার্টদের, বৈদেশিক বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবাই মিলে কাজ করে কিন্তু উন্নয়নের ধারা গতিশীল রেখেছি।’
 
জঙ্গি হামলার ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে কি-না জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, এটা বাংলাদেশের বিষয় নয়, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়। বিশ্বের সব দেশের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে সমূলে পরাস্ত ও বিনষ্ট না করা পর্যন্ত জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থাকবে। সুতরাং সব দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। আমরা এক্ষেত্রে পুরোপুরি সচেতন ও সতর্ক।
 
জঙ্গিরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে, ধরা পড়ছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত তারা কর্মকৌশলও পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশে জঙ্গিরা এখন কাজ করছে সেলভিত্তিক। দুই/তিনজন মিলে সেল তৈরি করছে। যখনই তাদের সম্পর্কে তথ্য মিলছে গ্রেফতার করা হচ্ছে, নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তাদের যা ক্যাপাসিটি আছে, তার চেয়ে বেশি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here